স্টাফ রিপোর্টার, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে রুমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর অবস্থা বেগতিক দেখে ওই গৃহবধূকে বাড়ির চালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলেও প্রচার চালায় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

খুনের শিকার হওয়া গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (৩০)। তিনি ওই ওয়ার্ডের মাঝের পাড়া গ্রামের বাহাদুর আলমের কন্যা এবং একই এলাকার মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী। তার ৮ বছরের সন্তান মো. লাবিব জানায়, তার মা রুমাকে তার বাবা মানিক বৃহস্পতিবার রাতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে স্বামী মানিক প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বাড়ি নির্মাণের কথা বলে এনজিও থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল তাদের সংসারে। এরইমাঝে রুমা আক্তারের আরেক খালাতো বোনকেও (নার্সে চাকরিরত) বিয়ে করে মানিক। শেষপর্যন্ত প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্বামী মানিক।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার লক্ষ্যারচরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ তার শরীরের বাইরে তেমন কোন আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। তাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী স্বামী মানিককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এই ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।